রোহিঙ্গা ইস্যুতে যে কারণে সোচ্চার প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান

বৃহস্পতিবার, ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ (১৯:১৪)
রোহিঙ্গা-ইস্যুতে-যে-কারণে-সোচ্চার-প্রেসিডেন্ট-এরদোয়ান

রেচেপ তাইয়েপ এরদোয়ান

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বরাবরই সোচ্চার ছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর গণহত্যা চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

গত মঙ্গলবার এরদোয়ান সরাসরি ফোন করেছেন মিয়ানমারের সবচেয়ে ক্ষমতাবান রাজনৈতিক নেত্রী অং সান সু চি-কে। রোহিঙ্গা মুসলমানদের মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে মিস সু চি'র কাছে উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে তুরস্ক।

এরইমধ্যে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দুর্দশা সচক্ষে দেখতে তুরস্কের ফার্স্ট লেডি আমিনে এরদোয়ান বৃহস্পতিবার ঢাকায় রয়েছেন। তার সঙ্গে রয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও।

যুক্তরাষ্ট্রের অস্টিন পি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক ড. তাজ হাশমি মনে করেন এর পেছনে রয়েছে কয়েকটি কারণ।

হাশমি বলেন, অনেকে এরদোয়ানকে বলছেন নিউ সুলতান। উনি তুরস্কের সে পুরনো ভূমিকায় ফিরে যেতে চাচ্ছেন। তুরস্কের পুরনো শৌর্য পুনরুত্থান করতে হবে। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে সোচ্চার হবার পেছনে এরদোয়ানের ব্যক্তিগত বিষয় জড়িত আছে।

তিনি আরো বলেন, ইসলামপন্থী হিসেবে পরিচিত এরদোয়ান মুসলিম বিশ্বের প্রধান প্রতিনিধি হতে চাইছেন। মুসলিম বিশ্বে সৌদি আরব এবং পাকিস্তানের পরিবর্তে তুরস্ককে নেতৃত্বের আসনে নিয়ে আসার চেষ্টায় রয়েছেন এরদোয়ান।

আর রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে মি: এরদোয়ান সোচ্চার হলেও মিয়ানমারের উপর তিনি কতটা চাপ তৈরি করতে পারবেন? – এ প্রশ্নের জবাবে তাজ হাশমি বলেন, সে সম্ভাবনা খুবই কম। ভারত এবং চীন প্রত্যক্ষভাবে এবং আমেরিকা পরোক্ষভাবে মিয়ানমারের শাসক গোষ্ঠীকে সহায়তা করছে।

‘নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, তিনি রোহিঙ্গা রিফিউজিদের ফিরিয়ে দেবেন। চীন সিকিউরিটি কাউন্সিলে ভেটো দিয়েছে। তার মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কোন ধরনের অ্যাকশন নেয়ার ঘোর বিরোধী। এছাড়া মুসলমানদের ব্যাপারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের যে পলিসি তাতে মনে হচ্ছে না যে আমেরিকা এগিয়ে আসবে। আমেরিকার মিডিয়াতে রোহিঙ্গাদের ব্যাপার নিয়ে খুব একটা উচ্চবাচ্য হচ্ছে না,’— বলেন তাজ হাশমি।

বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি নতুন ফ্রন্ট দাঁড় করানো যায় কি-না সে চেষ্টা তুরস্ক করছে। যদি মিয়ানমারের উপর কোন চাপ তৈরি করা সম্ভব না হয়, তাহলে এরদোয়ানের তাতে কী লাভ হবে?

এ প্রসঙ্গে তাজ হাশমি বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য সোচ্চার হয়ে এরদোয়ান দেশের মধ্যে এবং মুসলিম বিশ্বে এক ধরনের ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন। মুসলিম বিশ্বে তার একটা ইমেজ সৃষ্টি হবে যে উনি ইসলামের একজন চ্যাম্পিয়ন, উনি মুসলিম বিশ্বের ঐক্য সাধনে প্রচেষ্টা করছেন।

এছাড়াও তাজ হাশমির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তুরস্ক চাইছে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ইরান ও বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে একটি ফ্রন্ট করার চিন্তা-ভাবনায় এরদোয়ানের রয়েছে।

এদিকে, সৌদি আরবের নেতৃত্বে রিয়াদ-ভিত্তিক ৫৫টি মুসলিম দেশের যে জোট গঠন করা হয়েছে সেখান থেকে বাংলাদেশকে সরিয়ে আনার চেষ্টা করছে তুরস্ক। সে প্রচেষ্টায় তুরস্ক সফল হলে সৌদি আরবের উপর চাপ বৃদ্ধির পাশাপাশি সে অঞ্চলে তুরস্কের প্রভাব বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন হাশমি। (সূত্র বিবিসি)

এই ক্যাটাগরীর আরও খবর

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক চায় চীন

জিম্বাবুয়ের নতুন প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন মানানগাগওয়া

মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ইঙ্গিত টিলারসনের

নিজ দেশ লেবানন ফিরলেন হারিরি

অবশেষে পদত্যাগ করলেন মুগাবে

তিন দিনের সফরে আসছেন পোপ ফ্রান্সিস